রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজান মাস একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং আধ্যাত্মিক মাস। মুসলমানরা এই মাসে দিনের বেলায় সিয়াম পালন করেন, অর্থাৎ রোজা রাখেন। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিকিৎসকরা ইফতার ও সাহরির সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন।
অনেকে সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে পানিশূন্যতায় ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর পানিশূন্য হলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যেমন মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পিপাসা বৃদ্ধি, ত্বকে শুষ্কতা এবং ক্লান্তি। এজন্য রোজা রেখে পানিশূন্যতা এড়াতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুবই জরুরি।
একইভাবে, রোজার মধ্যে কিছু খাবার রয়েছে যা পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রথমেই আসে লবণাক্ত খাবার। যেমন চিপস, আচার, টিনজাত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস। এই ধরনের খাবারে অতিরিক্ত লবণ থাকে, যা শরীরের কোষ থেকে পানি টেনে নেবার কারণে রোজার সময় পিপাসা বৃদ্ধি করে। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
অপরদিকে, ক্যাফিনযুক্ত পানীয় যেমন কফি, চা, বা সোডা পান করার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে, যা পানির অভাব সৃষ্টি করে। সাহরির সময় যদি ক্যাফিনযুক্ত পানীয় বেশি পান করা হয়, তাহলে তা শরীরের পানি শূন্যতা বৃদ্ধি করতে পারে।
এছাড়া, চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয়ও পানিশূন্যতা বাড়ানোর কারণ হতে পারে। যেমন মিষ্টি পেস্ট্রি, সোডা, এবং এনার্জি ড্রিংকস। এসব খাবার দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়, ফলে তৃষ্ণার অনুভূতি আরো তীব্র হয় এবং পানির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়।
ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই এবং অন্যান্য ফাস্ট ফুডে বেশি সোডিয়াম এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে এবং শরীরের হাইড্রেটেড থাকার ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।
তবে, এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চললে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে রোজা রেখে শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব। রোজার সময় স্বাস্থ্যবান ও সতেজ থাকার জন্য সুস্থ খাদ্যাভ্যাস এবং পানির সঠিক পরিমাণ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, সাহরির পর একাধিক ছোটখাটো খাবারের পরিবর্তে একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর দীর্ঘ সময় সুস্থ ও সতেজ থাকবে।